সংসদে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি আলোচনার দাবি তুললেন রুমিন ফারহানা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বুধবার সংসদের অধিবেশনে তিনি কার্যপ্রণালির আলোচনার সুযোগ নিয়ে এ দাবি উত্থাপন করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং বাণিজ্য উপদেষ্টার মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি, আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান, বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে আমদানি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে বলা হয় যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি অনেক কম। এই বৈষম্যের কারণে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও নীতি বিশ্লেষক মহল থেকে বলা হয়েছিল, অনির্বাচিত প্রশাসনের পক্ষে এত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি করা সমীচীন নয়। তাদের মতে, এতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তাদের উদ্বেগ উপেক্ষা করে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি সংসদে বলেন, এই চুক্তির কিছু শর্ত দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই চুক্তির প্রতিটি ধারা, শর্ত এবং সম্ভাব্য প্রভাব জাতীয় সংসদে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।

এ বিষয়ে সংসদের সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি তাৎক্ষণিক আলোচনার আওতায় পড়ে না। কার্যপ্রণালি অনুযায়ী এমন বিষয় আলোচনার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগাম নোটিশ দিতে হয় এবং সে অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে।

রুমিন ফারহানা এরপর পুনরায় বক্তব্য রাখার সুযোগ চেয়ে বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হলে এটি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের সুযোগ রয়েছে। তাই জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা জরুরি।

বৈঠক ও চুক্তি সংক্রান্ত প্রধান তথ্য

বিষয়বিবরণ
বাণিজ্য ঘাটতিরপ্তানির তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বড় ঘাটতি
কৃষি খাতআমদানি বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতি
জ্বালানি খাতজ্বালানি আমদানি সম্প্রসারণের আলোচনা
ব্যবসার পরিবেশনীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
চুক্তির উদ্দেশ্যদুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য আনা

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।