খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ৮:১৪ পিএম

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে আমির হোসেন সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পট্টি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় আমির হোসেনকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছোট ভাই জুয়েল সরদার পলাতক রয়েছেন।
Table of Contents
নিহত আমির হোসেনের বোন রাশিদা বেগমের দেওয়া তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদার তার অপর ছোট ভাই সোহেল সরদারকে না জানিয়ে তার কাছ থেকে ২১০০ টাকা চুরি করেন। এই টাকা চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাতে সোহেল ও জুয়েলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
সে সময় বড় ভাই আমির হোসেন সরদার পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের দুজনকে থামানোর চেষ্টা করেন। মধ্যস্থতা করার একপর্যায়ে পারিবারিক কলহ তীব্র আকার ধারণ করে। তখন অভিযুক্ত জুয়েল সরদার একটি কাঠের রোয়া (কাঠের লাঠি বা খণ্ড) দিয়ে বড় ভাই আমির হোসেনের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় আমির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আমির হোসেন গুরুতর আহত হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করেন। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরই আইনগত ব্যবস্থা ও গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত জুয়েল সরদার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার বিভিন্ন পক্ষ, নিহতের পরিচয় এবং আইনি পদক্ষেপের সার্বিক বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যালোচনার বিষয় | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| নিহত ব্যক্তির নাম ও বয়স | আমির হোসেন সরদার (৪৫ বছর) |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬; রাত ১০:০০ ঘটিকা |
| ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান | পট্টি গ্রাম, গোসাইরহাট উপজেলা, শরীয়তপুর জেলা |
| অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম | জুয়েল সরদার (নিহতের ছোট ভাই) |
| কলহের মূল কারণ | সোহেল সরদারের ২১০০ টাকা না বলে জুয়েলের নেওয়ার ঘটনা |
| ব্যবহৃত আঘাতের বস্তু | কাঠের রোয়া (কাঠের খণ্ড) |
| নিহতের বর্তমান অবস্থা | মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুরে পাঠানো হয়েছে |
| অভিযুক্তের বর্তমান স্থিতি | ঘটনার পর থেকে পলাতক |
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশের একটি দল দুর্ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। পুলিশ আমির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শরীয়তপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
এই বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন গণমাধ্যমকে জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের করলে নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করা হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল সরদার পলাতক থাকলেও তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশি তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য