উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখনো আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেননি প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে দল ঘোষণার আগেই নিশ্চিতভাবে বলা হচ্ছে, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে থাকছেন। শুধু দলে জায়গা পাওয়াই নয়, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক হিসেবেও মাঠে নামবেন তিনি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে আবারও আর্জেন্টিনার নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন এই ফরোয়ার্ড।
এটি হতে যাচ্ছে মেসির টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামবেন। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি শুধু দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, ধীরে ধীরে নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলেও একাধিক ফুটবলার নিজ নিজ ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জাতীয় দলে নেতৃত্বের মূল দায়িত্বে আছেন মেসিই।
মেসির চারপাশে এবারের বিশ্বকাপে থাকবেন নিকোলাস ওতামেন্দি, লাউতারো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস, গনসালো মন্তিয়েল, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো অভিজ্ঞ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ফুটবলাররা। এদের অনেকেই ক্লাব পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করলেও জাতীয় দলে মেসিকেই কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দেখা হয়।
আর্জেন্টিনার হয়ে অধিনায়ক হিসেবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১৮টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। তবে নেতৃত্বের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ শুরু থেকেই সহজ ছিল না। সাবেক আর্জেন্টিনা কোচ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য সার্জিও বাতিস্তা মেসির নেতৃত্বের বিকাশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “যখন মেসি পরিপক্ব হলো, যখন বুঝল এটা তার সময়, তখন সে দায়িত্ব নিল। সে অপেক্ষা করেছিল, এবং যখন বুঝল যে এখন তার নেতৃত্ব দেওয়ার সময়, তখন সে এগিয়ে যায়। সে খুব বুদ্ধিমান ছিল। যখন মেসি নিজেকে প্রস্তুত মনে করত না, তখন সে নেতা হতে চাইত না। সে শুধু ফুটবল খেলতে চাইত।”
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে হাভিয়ের মাশচেরানোর কাছ থেকে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কত্ব পান মেসি। এরপর ধীরে ধীরে তিনি দলের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মতো সাফল্য অর্জন করেছে। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে।
মেসির নেতৃত্বগুণ নিয়ে কথা বলেছেন ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসও। তিনি বলেন, “লিও (মেসি) বিনয়ের সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়, ২০ বছর শীর্ষে থাকার পরও। সে হারলে রাগ করে—এটাই অসাধারণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে নেতৃত্বকে ভারসাম্য দেয়: এখানে নেতা প্রশ্নের বাইরে, সে-ই নেতা। অবিসংবাদিত নেতা অনেক নির্দেশনা দেয়।”
বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া এই দলে নেতৃত্বের কাঠামোও বেশ শক্তিশালী। মেসির অভিজ্ঞতা এবং স্কালোনির কৌশলগত পরিকল্পনা মিলিয়ে দলটি আবারও বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা পড়েছে ‘জে’ গ্রুপে। আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লাতিন আমেরিকার দলটি। এরপর ২২ জুন তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৮ জুন জর্ডানের মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে থাকবেন লিওনেল মেসি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বেও তাকে কেন্দ্র করেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
