বগুড়ায় ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় দশজন নিহত

বগুড়া জেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে টানা কয়েক দিনের পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। ২৬ মে রাত থেকে ৩০ মে রাত পর্যন্ত জেলার শেরপুর, শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতিতে চলাচল, নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সড়কে শৃঙ্খলার অভাব প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ঘটনায় মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ভারী যানবাহনের চাপায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ঘটে ৩০ মে রাত ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার লালদহ এলাকায়। সেখানে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে কুড়াহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী প্রামাণিক (৫৬) আলুবোঝাই একটি যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পরপরই যানটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।

এর আগে ২৯ মে সন্ধ্যায় কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারমাইল এলাকায় বগুড়া–নওগাঁ সড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হন। নিহতরা হলেন রাহিম বিজয় (২৩), অপূর্ব (১৮) ও প্রেম বাঁশফোড় (২০)। একই ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২৮ মে রাত ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার শেরপুর–ধুনট সড়কের শুভগাছা শাফলজানি এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহতরা হলেন আবু রায়হান (২০), বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, এবং তামিম হোসেন (২১), একজন কলেজ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন।

এর আগে ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকাল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে বাস সুপারভাইজার উত্তম মণ্ডল (৩০), ট্রাক হেলপার মো. হৃদয় (৩০), ট্রাক সহকারী ইনজামাম (২০) এবং কারখানা শ্রমিক রবিউল আউয়াল জিয়া (৪২) রয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি, পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালনায় অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষণবিহীন দ্রুতগতির চালনা, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং সড়ক আইন উপেক্ষা করার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিচে নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—

নামবয়সপেশাদুর্ঘটনার স্থান
আশরাফ আলী প্রামাণিক৫৬প্রধান শিক্ষকশিবগঞ্জ
রাহিম বিজয়২৩শিক্ষার্থীকাহালু
অপূর্ব১৮শিক্ষার্থীকাহালু
প্রেম বাঁশফোড়২০শিক্ষার্থীকাহালু
আবু রায়হান২০শিক্ষার্থীশেরপুর
তামিম হোসেন২১শিক্ষার্থীশেরপুর
উত্তম মণ্ডল৩০বাস সুপারভাইজারনন্দীগ্রাম
মো. হৃদয়৩০ট্রাক হেলপারনন্দীগ্রাম
ইনজামাম২০ট্রাক সহকারীনন্দীগ্রাম
রবিউল আউয়াল জিয়া৪২কারখানা শ্রমিককাহালু

এ ধারাবাহিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঈদের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।