পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা

পাবনা সদর উপজেলায় হোসেন আলী (৫৩) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় অবস্থিত জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত হোসেন আলী পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি আশরাফিয়া মাদ্রাসার স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও পরিবারের দাবি

নিহতের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় হোসেন আলী তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হয়েছিলেন। তিনি সন্তানসহ জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা হোসেন আলীকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং পরবর্তীতে অস্ত্র পুনরায় লোড করে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

এই হামলার সময় নিহতের মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেটি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে হোসেন আলী গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্ত

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হোসেন আলী সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে তার ছেলেকে পাবনা শহরের মাসুম বাজারের জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় রাখতে আসেন। এ সময় দুষ্কৃতিকারীরা তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে কী কারণে এবং কারা এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সাঁথিয়ার মনিরুল হত্যাকাণ্ড ও যুবক আটক

পাবনায় একই দিনে আরও একটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে পাবনা বাস টার্মিনাল এলাকায় বাস থেকে নেমে শহরে আসার পথে সাঁথিয়ার মনিরুল নামের এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

এই খুনের ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে একই এলাকার রাকিব নামক এক যুবককে আটক করেছে। আটককৃত যুবককে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মরদেহ উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়া

পাবনা সদর থানা পুলিশ পৃথক দুটি স্থান থেকে নিহত হোসেন আলী এবং ছাত্র মনিরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

একই দিনে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে। এই দুটি অপরাধের পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে এবং কারা এর সাথে জড়িত তা উদঘাটনে গভীর তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে।