খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫ পিএম

গত কয়েক দিনের অবিরাম ও রেকর্ডভাঙা বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও এর আনুষঙ্গিক কারণে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত জরুরি পদক্ষেপের বিবরণও তিনি সংসদের সামনে তুলে ধরেন।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি ধসে নিচে চাপা পড়ে এবং বন্যার পানিতে ডুবে এই প্রাণহানি ঘটে।
দুর্যোগের এই ভয়াবহতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। পাহাড়ি ঢল আর ধসে সেখানে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙামাটিতে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈধ বসবাস এবং মাটিকাটার প্রবণতা এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ত্রাণমন্ত্রীর বক্তব্য: “প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়ের পাশাপাশি খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন মাঠে রয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে। জেলাভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রের বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
কক্সবাজার: ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র (সর্বোচ্চ)
চট্টগ্রাম: ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্র
বান্দরবান: ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র
খাগড়াছড়ি: ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র
রাঙামাটি: ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র
এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের জন্য শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার এবং সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আকস্মিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রথম থেকেই সরকারের বিভিন্ন দফতর কাজ করছে। ইতিমধ্যে দুর্গতদের মাঝে দুই দফায় নগদ টাকা ও জরুরি খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ত্রাণভান্ডার থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
ভবিষ্যতে পাহাড়ধসের মতো দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে এবং জানমালের ক্ষতি কমাতে স্থায়ী সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি এই বিষয়ে স্ব-স্ব এলাকার সংসদ সদস্যদের সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া আপৎকালীন প্রস্তুতি হিসেবে দেশের সবকটি জেলায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই ১০০ টন চাল ও ২ লাখ টাকা করে প্রশাসনিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের সবকটি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য