গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে এবং এক নারী যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার বুড়িরঘর এলাকায় গাইবান্ধা–পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে মহাসড়ক অতিক্রম করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহত চালকের নাম ফেরদৌস মিয়া (৫০)। তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ কোমরপুর ইউনিয়নের কিসামত দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
দুর্ঘটনায় ইজিবাইকে থাকা যাত্রী শাপলা বেগম (৩০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল এবং হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি কিছুদূর গিয়ে থেমে গেলেও চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, গতিনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পলাশবাড়ী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত ইজিবাইকটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। ঘাতক বাসটি শনাক্ত ও জব্দের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এই ধরনের ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | বুড়িরঘর, গাইবান্ধা–পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক |
| সময় | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, দুপুর |
| নিহত | ফেরদৌস মিয়া (৫০), ইজিবাইক চালক |
| আহত | শাপলা বেগম (৩০), নারী যাত্রী |
| যানবাহন | যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক |
| বর্তমান অবস্থা | আহত রংপুরে চিকিৎসাধীন, বাস শনাক্তের চেষ্টা চলছে |
এ দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
