ফোরাত নদীর তীরে কারবালার ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখের এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে একাধারে ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বে অনন্য। ইসলামের ইতিহাসে নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হলেও কারবালার প্রান্তরের মর্মন্তুদ ও বিয়োগান্ত অধ্যায় পবিত্র আশুরাকে এক বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
আজ থেকে সাড়ে তেরো শ বছরেরও বেশি সময় আগে, হিজরি ৬১ সনের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে এক নিদারুণ ঘটনা ঘটেছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীরা স্বৈরাচারী শাসক ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা ও চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমগুলো দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় প্রতিবছরের মতো এবারও শোকাবহ পরিবেশে তাজিয়া মিছিল ও নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করবে। ইতিমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ বারান্দায় ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের খতিব মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের এক চিরন্তন দৃষ্টান্ত।
এদিকে পুরান ঢাকা ও রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় আয়োজিত তাজিয়া মিছিল সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া মিছিলে কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, তরবারি, ছুরি, লাঠি, দাহ্য পদার্থ, আতশবাজি বা পটকা বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ, সুটকেস বা সন্দেহজনক কোনো প্যাকেট বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশন থাকবে। তীব্র যানজট এড়াতে ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে চালকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।









