খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

ভাগ্য বদলাবার আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে দেশে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। দীর্ঘ বন্দিজীবন আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিজ দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে ফিরে আসা এই মানুষদের চোখে-মুখে ছিল এক স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই বড়সড় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সফল করা সম্ভব হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সরাসরি আর্থিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান।
ফিরে আসা এই বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলেন। মানবপাচারকারীদের নানা লোভনীয় প্ররোচনা ও সোনার হরিণ ছোঁয়ার মিথ্যা আশ্বাসে তারা প্রথমে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরই তারা এক চরম নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ভুক্তভোগীদের অনেকেরই অভিযোগ, লিবিয়ার মাটিতে পা রাখার পর বিভিন্ন সময়ে তারা স্থানীয় সশস্ত্র অপরাধী চক্র ও মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন তাদের ওপর চালানো হয়েছে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দেশ থেকে পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ের পরও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকের, ঠাঁই হয়েছিল লিবিয়ার অন্ধকার ডিটেনশন সেন্টারে।
এমন বিপজ্জনক ও অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সরকার। বিমানবন্দরে উপস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফিরে আসা এই নাগরিকদের অনুরোধ করেন, তারা যেন নিজেদের এই দুর্বিষহ ও তিক্ত অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। এতে করে অন্য কোনো যুবক যেন নতুন করে আর পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে জীবন বিপন্ন না করে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য নগদ পথখরচা, প্রয়োজনীয় জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সাময়িকভাবে থাকার জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনও বহু বাংলাদেশি নাগরিক নানা আইনি জটিলতায় আটকে আছেন। তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য