খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১৪ পিএম

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–কে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএনকে–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি কার্যকর ও প্রভাবশালী আঞ্চলিক কাঠামোয় উন্নীত করার পরিকল্পনা। সময় সীমিত হলেও শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাঠানো হলে তা সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক আস্থার বার্তা দেবে।”
Table of Contents
বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য আমন্ত্রণ—দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চারের ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে গভীরভাবে প্রোথিত। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, কানেক্টিভিটি এবং নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য। নতুন সরকার যদি শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা রাজনৈতিক প্রতীকী গুরুত্বের পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হুমায়ুন কবির সাক্ষাৎকারে বলেন, নতুন সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করতে চায়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং বিমসটেক–এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধি, জ্বালানি বিনিময়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক ও বিমসটেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
| অগ্রাধিকার ক্ষেত্র | সম্ভাব্য উদ্যোগ | প্রত্যাশিত ফলাফল |
|---|---|---|
| দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য | শুল্ক ও অশুল্ক বাধা হ্রাস | বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণ |
| সংযোগ (কানেক্টিভিটি) | রেল, সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন | আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজীকরণ |
| জ্বালানি সহযোগিতা | বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিনিময় | জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার |
| আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম | সার্ক ও বিমসটেক সক্রিয়করণ | বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি |
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাঠানো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি কৌশলগত বার্তা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যদি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংহতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য আমন্ত্রণের এই উদ্যোগকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দৃষ্টি থাকবে—শপথ অনুষ্ঠানে কে কে উপস্থিত থাকেন এবং সেই উপস্থিতি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলে।
মন্তব্য