খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল জলিল তোতা দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে তিনি দুধ দিয়ে গোসল করেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে স্বজন হত্যার ন্যায়বিচারই এখন তার সবচেয়ে বড় দাবি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন আব্দুল জলিল। ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল প্রথমে বিএনপির সমর্থক হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি দলটির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্দুল জলিল বলেন, ২০১৮ সালের ৫ জুলাই তার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর মধ্যেই গত ২১ জুন তার মামাতো ভাই ও ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক স্বজন হারানোর বেদনা এবং বিচার না পাওয়ার হতাশাই তাকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, “আমি আর এমন রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চাই না, যেখানে মানুষের মধ্যে বিভেদ, সংঘাত ও রক্তপাত বাড়ে। প্রতীকীভাবে দুধ দিয়ে গোসল করেছি, যাতে নিজেকে এই রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার বার্তা দিতে পারি। এখন আমি শুধু শান্তিপূর্ণভাবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে জীবন কাটাতে চাই।”
কণ্ঠ ভারী করে তিনি আরও বলেন, তার স্বজনদের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, আব্দুল জলিলের এই ঘোষণাকে তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ। তিনি বলেন, আব্দুল জলিল বর্তমানে বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কমিটির সদস্য নন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা নেই। ফলে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য বা সিদ্ধান্তের দায় দল বহন করবে না।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং স্বজন হারানোর মতো ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি অনেক সময় মানুষের রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলে। আব্দুল জলিলের প্রতীকী প্রতিবাদও সেই বাস্তবতার একটি বহুল আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে তার উত্থাপিত বিচারসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা তদন্তকারী সংস্থার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য