খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১:৯ এএম

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় মদ্যপানের লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর মতো মদ্যপানের ক্ষেত্রেও কেন সরকারি অনুমতিপত্র বা লাইসেন্স লাগবে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই আইনপ্রণেতা। রসাত্মক ও ক্ষুব্ধ সুরে তিনি বলেন, এই ধরনের নিয়ম কোন দেশের আইনে আছে তা তাঁর জানা নেই।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের এই ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘গাড়ি চালাইতে লাইসেন্স লাগে, মোটরসাইকেল চালাইতেও লাইসেন্স লাগে, এমনকি দোকান চালাইতেও লাইসেন্স লাগে। কিন্তু এখন শুনি মদ খাইতেও নাকি লাইসেন্স লাগে। এটা কোন দেশের আইন, আমার জানা নেই।’ তাঁর এই মন্তব্যে সংসদ অধিবেশনে হাসির রোল ওঠে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মদের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, দাম বাড়ায় অনেকে মনে কষ্ট পেয়েছেন বা ‘মাইন্ড’ করেছেন। যারা মাইন্ড করেছেন, তাদের ভোগান্তি কমাতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা উচিত। একই সঙ্গে মদ ও অন্যান্য মারাত্মক মাদককে এক করে না দেখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে মাত্র এক বোতল মদ পেলেই মাদক মামলা দিয়ে হয়রানি করার সুযোগ পায়, যা দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।
বাজেট বক্তৃতায় মদের লাইসেন্সের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক থানায় রাতে টহল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও সচল যানবাহন নেই। ফলে টহল কার্যক্রম জোরদার করতে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। এই সংকট দূর করতে আগামী বাজেটে পুলিশের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
মন্তব্য