খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৮ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃন্দস্থান গ্রামে এক গৃহবধূ প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গৃহবধূর স্বামী দাবি করেছেন, প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। একই সঙ্গে বাড়ি ছাড়ার সময় স্ত্রী প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
অভিযোগকারী মণীন্দ্র চন্দ্র দে জানান, তার স্ত্রী ঝর্ণা রানীর সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। তার দাবি, কাজের প্রয়োজনে তিনি বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
মণীন্দ্রের অভিযোগ, স্ত্রী ও প্রতিবেশী যুবকের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তিনি আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি স্ত্রীকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য সতর্ক করেন। একই সঙ্গে রুদ্র চন্দ্রের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি অবহিত করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, এসব সতর্কতা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ঝর্ণা রানী বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে মণীন্দ্র জানতে পারেন, তিনি প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে চলে গেছেন। স্বামীর দাবি, বাড়ি ছাড়ার সময় ঝর্ণা রানী প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪৫ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। এ বিষয়টিও তিনি থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে রুদ্র চন্দ্রের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে ঝর্ণা রানী ও রুদ্র চন্দ্রের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেছেন, ঝর্ণা রানী তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে ওই তালাকের বিষয়ে কোনো লিখিত দলিল বা আইনগত নথি তাদের বক্তব্যের সমর্থনে পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফলে ঘটনাটির বেশ কিছু দিক এখনো পরিষ্কার নয়। গৃহবধূ নিজের ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন কি না, তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, তার সঙ্গে ওই যুবকের সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
এ ঘটনায় মণীন্দ্র চন্দ্র দে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, গৃহবধূর নিজের অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত নথি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো একটি পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গৃহবধূ স্বেচ্ছায় চলে গেছেন, নাকি তাকে অন্য কোনোভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এ বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও প্রমাণের জন্য যথাযথ যাচাই প্রয়োজন।
পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, গৃহবধূর বর্তমান অবস্থান এবং অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মন্তব্য