পাঁচ পীর মাজারে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

সিলেট নগরীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জিন্দাবাজারে অবস্থিত পাঁচ পীরের মাজার থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন পথচারী মাজারের ভেতরে নিথর দেহটি পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের জানায় এবং পরে পুলিশকে অবহিত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ওই দিনও পাঁচ পীরের মাজারে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করছিলেন। এমন ব্যস্ত পরিবেশে হঠাৎ একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ সেখানে অবস্থান করছিল বা কোনো অজ্ঞাত কারণে সেখানে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিলেট মহানগর পুলিশের সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং জনসাধারণকে দূরে সরিয়ে দেন। এরপর লাশটি উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জিন্দাবাজারের পাঁচ পীর মাজার থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির শরীরে দৃশ্যমান কোনো পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত মালামাল পাওয়া যায়নি। ফলে তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাঁচ পীরের মাজার সিলেট নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হলেও এটি একই সঙ্গে একটি অত্যন্ত ব্যস্ত জনবহুল এলাকা। এখানে প্রতিদিন ভিক্ষুক, পথচারী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। এমন জায়গায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ পাওয়া যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাজারের খাদেম, দোকানদার ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, তদন্তের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং মৃত্যুর পেছনের কারণ বের করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় এমন ঘটনা শুধু একটি মৃত্যু নয়, বরং এটি জননিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা না গেলে জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে।