ঈদে চট্টগ্রামে সাত দিন ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ, সড়কে কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সড়কে শৃঙ্খলা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। মোট সাত দিনের এই নিষেধাজ্ঞা ঈদপূর্ব ও ঈদপরবর্তী সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

সোমবার (১৮ মে) সকালে চট্টগ্রামের দামপাড়ায় সিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত সময়জুড়ে মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ এবং চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট জরুরি মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি থাকবে।

সিএমপি সভায় আরও জানানো হয়, ঈদকালীন সময়ে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল যান চলাচল নিশ্চিত করতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। এসব পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে দামপাড়া, অলংকার মোড়, একে খান, ইপিজেড, বন্দর এলাকা, কাঠগড়, অক্সিজেন মোড়, বহদ্দারহাট, শাহ আমানত সেতু এলাকা এবং কদমতলী টার্মিনাল।

এছাড়া সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে এবং মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ঈদযাত্রা নিরাপদ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সিএমপি কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার নেছার উদ্দিন আহমেদ, নিষ্কৃতি চাকমা, মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, মো. রইছ উদ্দিন, কবীর আহম্মেদ, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. আমিরুল ইসলামসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিএমপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদকালীন সময়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।