রামপুরায় কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকার বনশ্রীতে একটি আবাসিক ভবন থেকে তৌশিফ শাহরিয়ার (১৮) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণীর (ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ) ছাত্র ছিলেন।

আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তৌশিফ শাহরিয়ারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক তথ্য

পারিবারিক সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত তৌশিফ শাহরিয়ার বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার কুনতাই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন।

নিহতের মা শামীমা আক্তার জানান, তৌশিফ শাহরিয়ার তাঁর একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালের দিকে তৌশিফের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মা শামীমা আক্তার তাঁর শয়নকক্ষে যান। সেখানে তিনি তৌশিফকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত দেখতে পান। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, কী কারণে বা কী উদ্দেশ্যে তৌশিফ এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো পারিবারিক বা মানসিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক তথ্যচিত্র

ঘটনাটির প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়ের বিবরণসংশ্লিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্ট
নিহতের নামতৌশিফ শাহরিয়ার
বয়স১৮ বছর
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঢাকা কলেজ
অধ্যয়নরত বিভাগ ও বর্ষবিজ্ঞান বিভাগ, দ্বাদশ শ্রেণী (ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ)
পিতার নামআব্দুল জলিল
মাতার নামশামীমা আক্তার
স্থায়ী ঠিকানাগ্রাম: কুনতাই, উপজেলা: সোনাতলা, জেলা: বগুড়া
বর্তমান বাসস্থানবনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
ঘটনার সময়কাল৬ জুন, শনিবার সকাল (উদ্ধারকাল: সকাল ০৯:৩০ মিনিট)
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল
নিশ্চিতকারী কর্মকর্তাপরিদর্শক মো. ফারুক (ইনচার্জ, ঢামেক পুলিশ ক্যাম্প)

আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য ঘটনাটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রামপুরা থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আইনি সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়েছে।