আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দলে বড় রদবদল, কেন বাদ পড়ল দিবালা

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনির ঘোষিত এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালার অনুপস্থিতি। ৩২ বছর বয়সী এই তারকার বাদ পড়া আলবিসেলেস্তে ফুটবল ভক্তদের মনে বড় এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজা কি তবে দিবালার জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল?

দিবালা বিহীন আর্জেন্টিনার নতুন পথচলা

লিওনেল মেসিকে অধিনায়ক করে ঘোষিত এই স্কোয়াডে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্কালোনি। তিনি বর্তমানে দলে তারুণ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। পাওলো দিবালা ২০২৪ সালের পর থেকেই জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তাঁর এই বাদ পড়ার পেছনে শারীরিক অসুস্থতা এবং ফর্মের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর দিবালা তাঁর চিরচেনা ছন্দ হারিয়েছেন। ইতালীয় ক্লাব রোমার হয়ে চলতি মৌসুমে তাঁর পরিসংখ্যানও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়; ২৫ ম্যাচে তিনি মাত্র ৩টি গোল করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া রোমার সাথে তাঁর চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাচ্ছে, যা তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার নতুন সংমিশ্রণ

স্কালোনির নতুন পরিকল্পনায় জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার। বিশেষ করে আলেহান্দ্রো গার্নাচো, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো এবং ক্লদিও এচেভেরি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রাথমিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। স্কালোনি মনে করছেন, আসন্ন বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে হলে আক্রমণভাগে ক্ষিপ্রতা এবং নতুন রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন।

আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দলের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও নতুন মুখ:

পজিশন বা অবস্থাননতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়বাদ পড়া অভিজ্ঞ খেলোয়াড়
আক্রমণভাগমাতিয়াস সুলে, মাতেও পেলেগ্রিনো, থমাস আরান্দাপাওলো দিবালা, আনহেল কোরেয়া
মধ্যমাঠনিকোলাস কাপুলদো, জিয়ানুকা প্রেস্তিয়ানিভ্যালেন্টিন কাস্তেয়ানোস
রক্ষণভাগজায়েদ রোমেরো
গোলরক্ষকসান্তিয়াগো বেলত্রান, ফাকুন্দো কাম্বেসেস

স্কালোনির সাহসী ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

কোচ স্কালোনি এবারের দল নির্বাচনে কঠোর এবং সাহসী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গোলরক্ষক বিভাগে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সাথে পাঁচজন বিকল্প গোলরক্ষক রাখা হয়েছে, যেখানে রিভার প্লেটের তরুণ সান্তিয়াগো বেলত্রান বড় বিস্ময় হিসেবে এসেছেন। রক্ষণভাগে গেতাফের জায়েদ রোমেরো এবং মধ্যমাঠে হামবুর্গের নিকোলাস কাপুলদোকে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে।

তবে জিয়ানুকা প্রেস্তিয়ানির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের দায়ে উয়েফা কর্তৃক ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া এই খেলোয়াড়কে দলে রাখা স্কালোনির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, কোচ তরুণ আরান্দার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছেন।

চূড়ান্ত লক্ষ্য ও সময়সীমা

১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞের জন্য আর্জেন্টিনা তাদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে। যদিও ৫৫ জনের বিশাল প্রাথমিক তালিকা দেওয়া হয়েছে, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৩০ মে’র মধ্যে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দিতে হবে। আনহেল কোরেয়া বা পাওলো দিবালার মতো তারকাদের অনুপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে, অতীত অর্জনের চেয়ে বর্তমান ফর্ম এবং তারুণ্যের শক্তিই এখন আর্জেন্টিনার প্রধান কৌশল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা যখন মাঠে নামবে, তখন বিশ্ব দেখবে এক নতুন ও তেজোদীপ্ত আলবিসেলেস্তে বাহিনীকে, যাদের মূল লক্ষ্য থাকবে মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয় করা। পাওলো দিবালার যুগের অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা এখন এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়।