অস্ট্রেলিয়ার শুরুর ধস বাংলাদেশের দাপট

বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আয়োজন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর দিনেই মিরপুরে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ শুরু থেকেই এমন আগ্রাসী বোলিং প্রদর্শন করে, যা ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টস জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে যায়।

ইনিংসের মাত্র তৃতীয় বলেই অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বল শর্ট ডিফেন্স না করে ছেড়ে দিতে গেলে বল ভেতরে ঢুকে সরাসরি স্টাম্প ভেঙে দেয়। এই আঘাতের পরই সফরকারীদের চাপ আরও বেড়ে যায়।

পরের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমান আক্রমণে এসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে আরও ধস নামান। ওভারের প্রথম বলেই কনোলি বোল্ড হয়ে ফেরেন। একই ওভারের আরেকটি বলেই উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ম্যাট রেনশো। ফলে মাত্র শূন্য রানেই অস্ট্রেলিয়া হারায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যা আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ পুরো ইনিংসজুড়ে ছিল শৃঙ্খলিত, গতিময় ও পরিকল্পিত। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের নিখুঁত লাইন ও লেন্থের সঙ্গে নাহিদ রানার গতিও আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রথম একদিনের ম্যাচেও বাংলাদেশ ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায়, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং একেবারে ভেঙে পড়ে।

অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত এক হাজার চব্বিশটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। তবে এর আগে মাত্র দুইবার তাদের দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন—একবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই হাজার ছয় সালে এবং আরেকবার পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই হাজার বাইশ সালে। বাংলাদেশ এই ম্যাচে সেই বিরল তালিকায় তৃতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে যুক্ত করল।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম তিন উইকেট শূন্য রানে হারানোর ঘটনা এটি মাত্র চতুর্থবার ঘটল। এর আগে মাত্র তিনটি দল এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। দুই হাজার তিন সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম তিন বলেই তিন উইকেট হারানোর মতো কঠিন অবস্থায় পড়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরুর এই বিপর্যয়ের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো—

শুরুর উইকেট পতনের সারণি

উইকেটব্যাটসম্যানআউটের ধরনবোলার
১মম্যাথু শর্টবোল্ডতাসকিন আহমেদ
২য়কনোলিবোল্ডমোস্তাফিজুর রহমান
৩য়ম্যাট রেনশোক্যাচ আউটমোস্তাফিজুর রহমান

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো উদ্বোধনী জুটিতে টানা চার ইনিংসে কোনো রান না ওঠা। একই সঙ্গে ম্যাথু শর্টের ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তিনি টানা তিনটি একদিনের ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন।

মিরপুরের এই ম্যাচটি তাই শুধু একটি সিরিজের অংশ নয়, বরং বাংলাদেশের বোলিং শক্তির এক বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের সুইং, গতি ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ পুরো ইনিংসের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেয়, যা ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।