কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক ম্যাচেই অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ব্ল্যাকপুলে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তাঁর বিধ্বংসী স্পেলেই ইংল্যান্ডের কেন্ট দল ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ১৪০ রানের দারুণ জয় তুলে নেয়। চারশোর বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ার দল মাত্র ২৮২ রানে গুটিয়ে যায়, যেখানে মূল ধস নামান হাসান মাহমুদ।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি মাত্র ১৬ ওভার বল করে ৬৯ রান খরচায় শিকার করেন ৬টি উইকেট। এর আগে প্রথম ইনিংসে তিনি ৩২ রানে তুলে নেন ৩টি উইকেট। সব মিলিয়ে পুরো ম্যাচে তাঁর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ১০১ রানে ৯ উইকেট, যা তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর এক ইনিংসে ছয় উইকেট শিকারের প্রথম অর্জন।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মোট উইকেটসংখ্যা ১০৪-এ উন্নীত করেছেন। ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে ধারাবাহিক লাইন ও লেংথ বজায় রেখে দুই দিকেই সুইং করানোর মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের বারবার বিপদে ফেলেন। বিশেষ করে নতুন ব্যাটসম্যান জুটি গড়ে ওঠার আগেই তা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা এই ম্যাচে বারবার দেখা গেছে।
ম্যাচ শেষে কেন্ট দলের অধিনায়ক বেল ড্রামন্ড হাসানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, তিনি পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও গতি বজায় রেখেছেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট এনে তিনি দলের জয়ের পথ সহজ করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই জয়ের ফলে কেন্ট দল দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে, যা তাদের শীর্ষে ওঠার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে, হাসান মাহমুদের এই অভিষেক পারফরম্যান্স দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেওয়া ক্রিকেটার সংখ্যা খুবই সীমিত। সেই ধারাবাহিকতায় হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর আগে দেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দুই দফায় কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ম্যাচে হাসান মাহমুদের বোলিং পরিসংখ্যান
| ইনিংস | ওভার | রান | উইকেট |
|---|---|---|---|
| প্রথম ইনিংস | উল্লেখ নেই | ৩২ | ৩ |
| দ্বিতীয় ইনিংস | ১৬ | ৬৯ | ৬ |
| মোট | — | ১০১ | ৯ |
এই ম্যাচে তাঁর বোলিং শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, মানের দিক থেকেও ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। চাপের মুহূর্তে নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়ার দক্ষতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিষেক ম্যাচেই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স হাসান মাহমুদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশি কন্ডিশনে ধারাবাহিকভাবে ভালো করার এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।
