গত ২ মে শনিবার, ‘ইকতিয়ার হোসেন সাগর’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় এক মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়। ফোনালাপের শুরুতেই জামালপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিম জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ মো. আব্দুস সোবহানকে সালাম দেন। তবে সালামের উত্তর না দিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সোবহান তাকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন এবং অন্যের গচ্ছিত জিনিস সরিয়ে ফেলার অভিযোগ আনেন।
ফোনালাপের মূল অংশগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সোবহান: “এই চোরের বাচ্চা ফোন ধরোস না কেন। মাইনসের জিনিস চুরি করে আরেক জায়গায় দিছোস, ফোন ধরোস নাই কেন?”
হালিম: “ভাই কারে বলতাছেন।”
সোবহান: “তোর বাপেরে ডাক দিয়ে নিয়ে আইসা এখানে চুরি শেষ করোস না কেন? এই চোর তোরেই কইতাছি চোর। তুই চুরি করছোস কেন বে? আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তুই চুরি করছোস কোন হিসাবে।”
হালিম: “আরে ভাই আপনি ব্যবহার ভালো করেন, আপনার সঙ্গে তো আমার এই সম্পর্ক না।”
সোবহান: “না না আমি কোন সম্পর্ক মারি আমি? আমার হাজার হাজার নেতাকর্মীর সামনে অপমান করে সম্পর্ক দেখাও? তুই চুরি করছোস, তুই আমারে না বলে চুরি করলি কেন?”
হালিম: “আরে ভাই এটা আমিনুল আর শাহিন মাস্টারকে বলেন, আমারে কেন?”
নেপথ্যের কারণ: বালুঘাটের ইজারা ও ব্যাংক ড্রাফট
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট নেতারা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ মো. আব্দুস সোবহানের ভাষ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় একটি বালুঘাটের ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে।
তিনি জানান, বালুঘাটের ইজারার জন্য ব্যাংক ড্রাফট (বিডি) জমা দেওয়ার বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আব্দুল হালিমকে সেই বিডিগুলো ড্রপ করার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি সবার সিদ্ধান্ত অমান্য করেন। সোবহানের অভিযোগ, হালিম সংগঠনের সবার বিডি লুকিয়ে ফেলে নিজের ইচ্ছামতো বিডি ড্রপ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে একক সিদ্ধান্তে এই কাজ করাকেই সোবহান ‘চুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও জানান, এই কথোপকথনটি গত ১৯ এপ্রিলের।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল হালিম বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে জানান, অডিও ক্লিপে যা শোনা গেছে সেটিই তার বক্তব্য এবং এই বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।
দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
জামালপুরে বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতাদের এমন কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক কথোপকথন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বালুঘাটের মতো ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে দলীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
একই সময়ে জেলার একজন সাবেক ছাত্রদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবুও অডিও ফাঁস এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদের চিত্রটি দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শৃঙ্খলার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
