খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ এএম

প্রেমের টানে একসঙ্গে মরণপণ করার গল্প রূপালি পর্দায় কিংবা উপন্যাসের পাতায় প্রায়ই দেখা যায়। তবে ভারতের উত্তর প্রদেশে ঘটে যাওয়া এক বাস্তব ঘটনা সবাইকে চমকে দিয়েছে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে জীবনের ইতি টানতে একসঙ্গে যমুনা নদীর সেতুতে গিয়েছিলেন এক প্রেমিক-প্রেমিকা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। প্রেমিকা পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রেমিক ঠিকই নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে সেই দৃশ্য দেখে প্রেমিকা ঝাঁপ না দিয়ে উল্টো শান্ত পায়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিদের সাহসিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপে অলৌকিকভাবে প্রাণ বেঁচেছে ওই যুবকের।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ এলাকার নিউ যমুনা ব্রিজে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ওই যুবকের নাম আনু গুপ্তা।
সেতুতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই যুগল আগে থেকেই একসঙ্গে আত্মহত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে সেতুতে এসেছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা শেষবারের মতো নিজেদের মধ্যে কিছু কথাবার্তাও বলেন। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আনু গুপ্তা কোনো কিছু না ভেবেই যমুনা নদীর উত্তাল স্রোতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তবে মূল নাটকীয়তা ঘটে ঠিক এর পরেই। আনু নদী অভিমুখে ঝাঁপ দিলেও, তাঁর প্রেমিকা তীরে কিংবা সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটি কেবল প্রত্যক্ষই করেননি, বরং প্রেমিককে নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে দেখেও সম্পূর্ণ শান্ত ও নির্বিকার ছিলেন। কোনো ধরনের চিৎকার বা কাউকে ডাকার চেষ্টা না করে তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে সেতু থেকে নেমে চলে যান।
সেতুর ওপর থাকা অন্য পথচারীরা ঘটনাটি দেখামাত্রই দ্রুত স্থানীয় থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন কোনো সময় নষ্ট না করে স্থানীয় দক্ষ ডুবুরি দল নিয়ে যমুনা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তীব্র স্রোতের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ডুবুরিরা আনু গুপ্তাকে নদী থেকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধারের পর যুবকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
হঠাৎ কী কারণে এই যুগল একসঙ্গে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন, তা উদ্ঘাটন করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে প্রয়াগরাজ পুলিশ। একই সঙ্গে যুবকের পাশে থাকা সেই রহস্যময় তরুণীর সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তদন্তের পর পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মন্তব্য