হাটহাজারীতে চাকসু নেতা আহত

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এক নেতা। ঘটনাটি গত সোমবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এম আলম ফিলিং স্টেশনে ঘটে। এ হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আহত ব্যক্তির নাম মাসুম বিল্লাহ। তিনি চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, তিনি মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং তিনি মাথা, চোখের ওপরের অংশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে সহপাঠীরা তাঁকে প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাঁর চোখের ওপর গভীর ক্ষত রয়েছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিটি স্ক্যানসহ একাধিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার কারণ নিয়ে আহত মাসুম বিল্লাহ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে অনুষ্ঠিত একটি সমঝোতা বৈঠকে তিনি অংশ নেন। ওই বৈঠকে প্রশাসন, পুলিশ এবং চাকসুর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে একটি দুর্ঘটনাকবলিত শিক্ষার্থীর জন্য ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়। তাঁর মতে, ওই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার কারণেই পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, হামলায় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানিয়েছেন, আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উপাচার্যও বিষয়টি নিয়মিত তদারক করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চাকসু নেতারা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময় ও স্থানঘটনাফলাফল
সোমবার রাত ৮টা, এম আলম ফিলিং স্টেশন, হাটহাজারীমোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে গেলে হামলামাসুম বিল্লাহ গুরুতর আহত
ঘটনাস্থলধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আক্রমণমাথা ও চোখের ওপরে গুরুতর জখম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রপ্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানঅবস্থার অবনতি, রেফার করা হয়
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালভর্তি ও চিকিৎসা চলমানসিটি স্ক্যানসহ উন্নত চিকিৎসা চলছে

এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।