খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:০ পিএম

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত গৌরব হলো ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। এতকাল ধরে বিশ্বজয়ের সেই আনন্দ উদযাপিত হতো চকচকে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা আর বুকে মেডেল ঝুলানোর চিরচেনা দৃশ্যের মধ্য দিয়ে। তবে ২০২৬ সালের মহোৎসব থেকে ফুটবলের এই পুরোনো ঐতিহ্যে যোগ হতে যাচ্ছে আধুনিক ও রাজকীয় এক মাত্রা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিশ্বজয়ী দলের জন্য ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি চালু করা হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা স্মারক আংটি। ফলে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে বিজয়ীদের সম্মাননা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে।
মূলত উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া দুনিয়ায়, বিশেষ করে বাস্কেটবলের এনবিএ (NBA) কিংবা আমেরিকান ফুটবলের এনএফএল (NFL)-এর চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে এমন মহামূল্যবান আংটি উপহার দেওয়ার রেওয়াজ বহু বছরের পুরোনো। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যেহেতু যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো, তাই উত্তর আমেরিকান ক্রীড়া সংস্কৃতির এই নান্দনিক ধারাটিকেই এবার বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে নিয়ে আসছে ফিফা।
আসন্ন বিশ্বকাপের সালটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২ হাজার ২৬টি বিশেষ রিং তৈরি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফিফা। এই বিশেষ স্মারকের সংখ্যা নির্ধারণের পেছনে রয়েছে একটি দারুণ কৌশল। পুরো সংখ্যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য: মোট রিংয়ের মধ্যে মাত্র ৩০টি আংটি বরাদ্দ থাকবে বিশ্বজয়ী দলের খেলোয়াড় ও মূল কোচিং স্টাফদের জন্য।
সমর্থকদের জন্য: বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি রিং উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুটবলপ্রেমী ও স্মারক সংগ্রাহকদের জন্য, যা তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
ফাইনালের মহারণ শেষ হওয়ার পর মাঠের ভেতরেই উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজয়ী দলের অধিনায়ক এবং প্রধান কোচের আঙুলে প্রতীকী বা অস্থায়ী দুটি রিং পরিয়ে দেওয়া হবে। মূল চ্যাম্পিয়নশিপ রিংগুলো যেহেতু অত্যন্ত নিখুঁত ও কাস্টমাইজড হবে, তাই ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয়ী ৩০ জন সদস্যের আঙুলের সঠিক মাপ নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে প্রত্যেকের আঙুলের মাপ অনুযায়ী নিখুঁতভাবে তৈরি করে এই আংটিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি রিংয়ের মূল নকশায় খোদাই করা থাকবে স্বপ্নের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, বিজয়ী দলের নাম এবং একটি সম্পূর্ণ অনন্য সিরিয়াল নম্বর। শুধু তাই নয়, আংটিটির সত্যতা ও মৌলিকত্ব নিশ্চিত করতে ফিফার পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল ‘অথেনটিসিটির সনদ’ বা শংসাপত্রও প্রদান করা হবে।
মেডেলের চেয়েও ব্যক্তিগত আঙুলের মাপে তৈরি এই রিং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় এক অমূল্য এবং আজীবন মনে রাখার মতো স্মারক হয়ে থাকবে। ট্রফি তো ফুটবল ফেডারেশনের শোকেসে জমা থাকে, কিন্তু এই রিং খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের কাছে আজীবন যত্ন করে রাখতে পারবেন।
এদিকে বিশ্ব ফুটবলের এই নতুন রোমাঞ্চের মধ্যেই কোটি কোটি ভক্তের চোখ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। আগামী রোববার এই মাঠেই মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় ফুটবলের পাওয়ারহাউজ স্পেন। এই দুই পরাশক্তির দ্বৈরথেই নির্ধারিত হবে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম কাস্টমাইজড চ্যাম্পিয়নশিপ রিংটি আসলে কোন দলের ফুটবলারদের আঙুলে শোভা পেতে যাচ্ছে।
মন্তব্য