
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধমূলক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত অভিযানে মার্কিন বাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং যুদ্ধবিমান রয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি সামরিক বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
হামলার পর জর্ডানের জনগণের উদ্দেশে আইআরজিসি একটি রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে। সংস্থাটি দেশটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে জর্ডান সরকার জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
একই সময়ে সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিশেষ কমান্ড স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশহর এলাকায় সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিরিয়ার সরকার বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আল-তানফ ঘাঁটি নিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক সীমান্তবর্তী ওই এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে কাতার, কুয়েত ও ইরাকের নাম উল্লেখ করেছে তেহরান। উত্তর ইরাকের ইরবিল ও সুলাইমানিয়া শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানবিরোধী কুর্দি সংগঠন কোমালাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এই হামলার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার কারণে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির জন্য এসব স্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কুয়েতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানীয়জল সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ এসব অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথকে কেন্দ্র করে যেকোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত মাসে কার্যকর হওয়া একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েছে।
ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমাতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক ও বান্দার-ই-লেনগেহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলা হয়েছে। বন্দর-ই-খামির এলাকায় তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দর আব্বাসের তাপেহ আল্লাহ আকবর এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেল অবকাঠামোর ওপর হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানশহর বিমানবন্দরে হামলার কারণে স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার খবর দেওয়া হয়েছে। কিশ দ্বীপেও বিমান হামলার পর সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। শুক্রবারের সর্বশেষ হামলায়ও নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংঘাত এখন আর শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই উত্তেজনার প্রভাবের মধ্যে পড়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই পক্ষকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
> ডেমরায় পুলিশ কক্ষে কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
> ইরানের পাল্টা হামলায় বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা
> ইউক্রেনের কারাগারে কামরুল, অপেক্ষায় পরিবার
> বাঁকড়া মসজিদে জুমা বন্ধ, নিরাপত্তায় থামল কর্মসূচি
> বাঁকড়া মসজিদে জুমা বন্ধ, নিরাপত্তায় থামল কর্মসূচি
> যমুনা সেতুতে আত্মহত্যার পরিকল্পনা, উদ্ধার প্রেমিক
> বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল গার্মেন্টস কর্মীর
> রায়পুরায় দুই দিনে পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> ডিএনডি লেকে দুই কিশোরের মৃত্যু
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
> একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য