খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম

দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা দূর করতে এবার সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যাংকটির সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সংকট উত্তরণে সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। তবে চলতি এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে সংগঠনটির পূর্বঘোষিত গ্রাহক মহাসমাবেশ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা এসব দাবি ও সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক নুরুনবী মানিক। তিনি ব্যাংকটির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি এবং সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে বিরাজমান গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেন।
নুরুনবী মানিক তাঁর বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংককে এর প্রকৃত ও আদি মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ গ্রাহক ও জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ব্যাংকটিকে আর কোনো লুটেরা গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। ২০১৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে ব্যাংকটির বৈধ মালিকানা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। নেতাদের দাবি, ওই সময়কার অবৈধ মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ও সুনামের চরম ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে চালানো সব ধরনের অপপ্রচার রোধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তা দিয়ে ব্যাংকের যাবতীয় দায় পরিশোধের দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ১৮/ক ধারা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন ফোরামের নেতারা।
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের দেওয়া কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে নুরুনবী মানিক বলেন, সংসদে এই ব্যাংকটি নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের মনে আরও সংশয় তৈরি করেছে। জনস্বার্থে এসব বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, গত দুই মাসেও বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর জন্য দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো আমানতের সুরক্ষার জন্য গ্রাহকেরা যখন ন্যায্য আন্দোলন করছেন, তখন সেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পরীক্ষার্থী ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে শনিবারের মহাসমাবেশ স্থগিত করা হলেও তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। যদি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা না হয়, তবে সাধারণ গ্রাহকদের সাথে নিয়ে সারা দেশে মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য