জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ২:৩০ পিএম

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। আজ রবিবার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী বাবা বাদী হয়ে এই আবেদনটি দায়ের করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে এই বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসলিমা জাহান পপি সাংবাদিকদের এই মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগম ছাড়াও আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন:
ডা. মো. আবু জাফর, সাবেক মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতর।
শফিকুল আলম, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম আরজি ও জবানবন্দিতে তার ৯ মাস বয়সী শিশুকন্যা সাউদা মুসকানের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার শিশুকন্যা সাউদা মুসকান হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হতে হয় পরিবারটিকে।
বাদী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট, অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের তীব্র অভাব এবং ডিউটিরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলা ছিল দৃশ্যমান। যথাযথ ও সময়োপযোগী চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একপর্যায়ে সাউদা মুসকান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
আবেদনে আরও বলা হয়, দেশে সঠিক সময়ে হামের প্রতিষেধক বা টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকা সংকটের কারণে শিশুটি সময়মতো হামের টিকা গ্রহণ করতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে সে সহজেই এই সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায়।
বাদী সিরাজুল ইসলামের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারকদের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দেশব্যাপী সময়মতো হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের এই নীতিগত ও প্রশাসনিক অবহেলার কারণে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে এবং বর্তমানেও হাজার হাজার শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংকটাপন্ন দিন কাটাচ্ছে।
বাদীর দাবি, আসামিদের এসব কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও নাগরিকের জীবন বাঁচানোর যে মৌলিক রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার রয়েছে, তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি একই সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশাগত অবহেলা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার শামিল। এই সংকটের সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রেখেছেন।
মন্তব্য