চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মামলায় সাধারণ মানুষকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ানো ও হয়রানি করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে কিংবা অনৈতিক সুবিধা নিতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই হুঁশিয়ারি দেন মহানগর গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম। মূলত অনলাইন জুয়াবিরোধী দেশব্যাপী একটি সফল অভিযানের আদ্যোপান্ত তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে সমসাময়িক রাজনৈতিক মামলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও অবধারিতভাবে সামনে আসে।
ডিবি প্রধান জানান, জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত ঢাকা মহানগরের মোট ৫৯টি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলা বর্তমানে ডিবি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রতিটি মামলার ভেতরের সত্যতা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য প্রতি ১৫ দিন পরপর এই মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুলিশ সদরদপ্তরেও এই মামলাগুলোর কেন্দ্রীয় তদারকি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন:
“প্রতিটি মামলার ডিজিটাল এভিডেন্স, ভিডিও ফুটেজ এবং বাস্তব তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো অবস্থাতেই কোনো নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি কিংবা হেনস্তা হতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অনলাইন জুয়াবিরোধী সাম্প্রতিক অভিযানের বড় একটি সাফল্যও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। ডিবি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় একটি সংঘবদ্ধ বড় অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।
এই বিশেষ অভিযানে চক্রটির কাছ থেকে সাড়ে ছয় হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সচল সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এই জালিয়াতি ও অবৈধ চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ও বেনামি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসব সিম সচল রেখেছিল এবং সেগুলো দিয়ে অবৈধ অনলাইন জুয়ার কোটি কোটি টাকার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছিল। এর মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং বাকি সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।









