খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৯ পিএম

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক দুর্ধর্ষ আসামিকে বিশেষ অভিযানে পুনরায় গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের গ্রেফতারে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
র্যাব-১ জানিয়েছে, রোববার গভীর রাতে গাজীপুরের বাসন থানার কড্ডাবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুকিমুদ্দিন ওরফে লোকমান (৫৪) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার এক খুদে বার্তার মাধ্যমে সংস্থাটি তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট সরকার পতনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির সময় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একাধিক বন্দি বেআইনিভাবে কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। একই সময়ে কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ঘটনার পর কারা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্গঠনের পাশাপাশি পলাতক বন্দিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করে।
ঘটনার পর কারাগারের জেলার লুৎফর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলার তদন্তের পাশাপাশি পলাতক বন্দিদের অবস্থান শনাক্তে র্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানি এবং গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের আভিযানিক দল যৌথভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করা, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ এবং পলাতকদের চলাফেরার ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তৎপরতার ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মামলার ৮০ নম্বর আসামি লুকিমুদ্দিন ওরফে লোকমানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিলেন বলে র্যাবের দাবি।
গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কার্যক্রম প্রচলিত আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তও অব্যাহত থাকবে।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্য বন্দিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান থেমে নেই। বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পলাতকদের আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মতে, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পুনরায় গ্রেফতার করা শুধু বিচারিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্যই নয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পলাতক প্রত্যেক বন্দিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও তিনজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব। সর্বশেষ লুকিমুদ্দিন ওরফে লোকমানের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পুনরায় আটকের অভিযান আরও এগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে অবশিষ্ট পলাতকদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
মন্তব্য