ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটের সময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় না থাকায় এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তার মতে, নির্বাচনী কেন্দ্রে তার এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করা এবং জাল ভোটের ঘটনা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা ক্ষুণ্ণ করেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্প এলাকায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, “আমার নির্বাচনী এজেন্টদের একাধিক কেন্দ্রে বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেও নির্বাচনের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অধ্যাপক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, প্রশাসন তাদের সংরক্ষিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না, যার কারণে সাধারণ ভোটারদের মতামত নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই জাল ভোট ও অনিয়মের দায় চাপানোর অভিযোগও তোলেন।
অধ্যাপক রেজাউল করিম অবিলম্বে নির্বাচনের বাতিল ও নতুন করে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ সাধারণ জনগণের নির্বাচনের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রশাসনের সঙ্গে প্রার্থীদের সহযোগিতা পুনর্বিন্যস্ত করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
নিচের টেবিলে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীর অভিযোগের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| কেন্দ্র | অভিযোগের ধরণ | প্রভাব |
|---|---|---|
| মেঘনা শিল্প এলাকা ১ | নির্বাচনী এজেন্ট বের করে দেওয়া | প্রার্থী পর্যবেক্ষণ ব্যাহত |
| মেঘনা শিল্প এলাকা ২ | জাল ভোটের প্রমাণ | ভোটের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ |
| সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্র ৩ | এজেন্টদের উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত | ভোটারদের মতামত প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত |
| বিভিন্ন কেন্দ্র | প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা | সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়নি |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অধ্যাপক রেজাউল করিমের নির্বাচনী বর্জন ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তারা নির্বাচনের পুনর্বিন্যাস বা অবিলম্বে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় না হলে আসনের ভোটাভুটি এবং জনমতের স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।
