খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম

টানা কয়েক দিনের অতিবর্ষণ ও ভারী বৃষ্টির জেরে চট্টগ্রামে পৃথক দুটি স্থানে পাহাড়ধসের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের মাটি চাপায় দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে এক শিশুর বয়স মাত্র ১০ মাস। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এবং দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। পাহাড়ধসের এই দুটি ঘটনায় এক শিশুর মা গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার ৬ নম্বর সমাজে। টানা বর্ষণে নরম হয়ে যাওয়া একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ আচমকা ধসে নিচে থাকা একটি কাঁচা বসতঘরের ওপর পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে ছিল ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর ও তার মা। পাহাড়ধসের সাথে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ মাটি এবং ঘরের চালের গাছের খুঁটির আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিষ্পাপ শিশু তানভীরের মৃত্যু হয়। মাটির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন তার মা। পরে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে মাটি সরিয়ে মাটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও শিশুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিহত তানভীর ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মহিন উদ্দীনের ছেলে।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরে মহানগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় দ্বিতীয় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে পাহাড়ের একাংশ ধসে একটি বসতবাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আপ্রাণ চেষ্টার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাটির গভীর থেকে সুমাইয়া (১২) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, পাহাড়ধসের ঠিক আগের মুহূর্তে সুমাইয়ার বাবা-মা বিপদ আঁচ করতে পেরে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে যেতে সক্ষম হন। তবে পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া দুর্ভাগ্যবশত সময়মতো বের হতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে টন টন মাটি ঘরের ওপর ভেঙে পড়লে সুমাইয়া জীবন্ত কবরস্থ হয়। নিহত সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।
বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা মানুষের জন্য এই পাহাড়ধস এক নিয়মিত আতঙ্কের নাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতামূলক মাইকিং এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা সত্ত্বেও অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে চান না, যার খেসারত দিতে হয় এমন অবুঝ শিশুদের প্রাণ দিয়ে। দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে সীতাকুণ্ড ও পাঁচলাইশ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আরও বড় বিপর্যয় এড়াতে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য