খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:০ পিএম

সিলেট সীমান্তে চোরাচালান রোধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় জিরা, চা-পাতা ও চিনিসহ এক কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছেন বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সদস্যরা। পণ্য জব্দের পাশাপাশি চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত তিনটি বাংলাদেশি পিকআপ ভ্যানও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীবাজার বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল রেখে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে বিজিবি সদস্যরা মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ২০০ কেজি ভারতীয় জিরা এবং ২ হাজার কেজি ভারতীয় চা পাতা উদ্ধার করেন। একই সাথে চোরাচালানের পণ্য পরিবহনের দায়ে তিনটি বাংলাদেশি ডিআই পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই সব মালামাল ও যানবাহনের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, একই দিন ১৯ বিজিবির আরও কয়েকটি দল সিলেটের জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় আরেকটি সমান্তরাল অভিযান পরিচালনা করে। জৈন্তাপুর, সুরাইঘাট ও লোভাছড়া বিওপির টহল দলগুলো এই অভিযানে অংশ নেয়। সেখান থেকেও মালিকবিহীন অবস্থায় ৭১৮ কেজি ভারতীয় চিনি, ১টি ভারতীয় মহিষ, ১০২ কেজি চা পাতা এবং ৮৬ বিরা সুপারি বা পান জব্দ করা হয়। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩২৫ টাকা।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, বিগত দুই দিনের এই ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্ত থেকে সর্বমোট ১ কোটি ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২৫ টাকার চোরাই পণ্য ও যানবাহন জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখতে বিজিবি সবসময় বদ্ধপরিকর। সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত এসব অবৈধ ভারতীয় মালামাল ও যানবাহন স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য