খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩২ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। অতিবর্ষণ ও মাটির ক্ষয়ের কারণে একটি পাহাড়ের একাংশ ধসে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ওপর পড়লে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় মাদ্রাসার আরও বেশ কিছু শিক্ষার্থী এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫ নম্বর ব্লকে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, দুপুরের দিকে যখন মাদ্রাসায় পাঠদান বা কার্যক্রম চলছিল, ঠিক তখন আচমকা পাশের পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে মাদ্রাসার কাঁচা ও আধাপাকা কাঠামোর ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ঘটনার সময় ওই মাদ্রাসার ভেতরে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষার সুযোগটুকুও পায়নি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে হাত লাগান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়। বর্তমানে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অক্ষত বা দ্রুত উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের দুটি বিশেষ ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা মাটি সরিয়ে ভেতরে আটকে থাকাদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এই দুঃখজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান। ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরোদমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। তবে মাটির নিচে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী এখনো নিখোঁজ বা চাপা পড়ে আছে, তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রতি বছরই বাড়ে। পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা এসব বসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতি বর্ষাতেই এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়। এই ঘটনার পর পুরো ৫ নম্বর ক্যাম্প এলাকায় এক শোকাবহ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।
মন্তব্য