খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:৯ পিএম

যশোরের শার্শা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক বিশেষ অভিযানে ৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫টি মোবাইল ফোনসহ ৪ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে দুই জন বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য বা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কায়বা সীমান্তের চন্দনপুর কলেজ মোড় এলাকা থেকে বিজিবি সদস্যরা তাদের হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জালে সাধারণ অপরাধীদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা ধরা পড়ায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজিবির হাত থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আটককৃতরা হলেন—সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া এলাকার মৃত ইমানুর রহমানের ছেলে এবং বর্তমান ইউপি সদস্য মোস্তফা কবির ফারুক (৪৭), একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৪৩), কলারোয়া উপজেলার কাদপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে এবং বর্তমান ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দীন (৩৮) ও একই এলাকার সামছুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)।
বিজিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানি মালামাল পরিবহন এবং মাদক পাচারকারী চক্রের ওপর বিজিবির সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে টহল তৎপরতাও জোরদার করা হয়। কায়বা সীমান্তে মাদক কারবারিদের একটি বড় দল লেনদেন করতে জড়ো হচ্ছে—এমন একটি নিখুঁত গোপন সংবাদ পান বিজিবি কর্মকর্তারা। খবর পাওয়ামাত্রই বুধবার দুপুরে ২১ বিজিবির একটি চৌকস দল শার্শার কায়বা সীমান্তের চন্দনপুর কলেজ মোড় এলাকায় বিশেষ চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অবস্থান নেওয়ার কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ৪ জনকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে ৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
২১ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এরপর তাঁদের যশোর শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে আসছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের মরণকামড় থেকে রক্ষা করতে এবং সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির এই ধরণের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও পুরোদমে অব্যাহত থাকবে। অবহেলা বা ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তা সে সাধারণ নাগরিক হোক কিংবা জনপ্রতিনিধি।
মন্তব্য