ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগের শেষ রাউন্ডে আবাহনী ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ব্যাট হাতে এক অবিস্মরণীয় ও বিধ্বংসী প্রদর্শনী উপহার দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শিরোপা নির্ধারণের সমীকরণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এই ম্যাচে চাপের মধ্যেও দলটি ব্যাটিংয়ে অসাধারণ দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দেয়। একদিনের স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো চারশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে তারা পৌঁছে যায় এক ঐতিহাসিক উচ্চতায়।
ইনিংসের শুরুতে অবশ্য মোহামেডান কিছুটা চাপে পড়ে। ওপেনিং জুটিতে দ্রুত একটি উইকেট হারালেও সেই ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নাঈম শেখ ৩৬ রান করে ফিরে গেলেও দলকে স্থিতিশীল পথে ফেরান পারভেজ হোসেন ইমন ও এনামুল হক বিজয়। এই দুই ব্যাটসম্যানের জুটি ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়। তারা গড়ে তোলেন ২৪৮ রানের এক বিশাল অংশীদারিত্ব, যা প্রতিপক্ষ বোলিং আক্রমণকে কার্যত অসহায় করে তোলে।
পারভেজ হোসেন ইমন খেলেন দৃষ্টিনন্দন ১৫০ রানের ইনিংস, যেখানে ছিল শক্তিশালী স্ট্রোকের ঝলক ও ধারাবাহিকতা। অন্যদিকে এনামুল হক বিজয় ১৪১ রানের ইনিংস খেলেন ধৈর্য ও আক্রমণের নিখুঁত সমন্বয়ে। এই জুটির পরও রান তোলার গতি কমেনি। মধ্য ও শেষ দিকে আফিফ হোসেন মাত্র ৩৩ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা ইনিংসকে আরও বড় সংগ্রহের দিকে ঠেলে দেয়।
শেষ দিকে আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন, যার ফলে মোহামেডানের ইনিংস শেষ হয় ৪০৬ রানে। চার উইকেট হারিয়েই এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে তারা।
এই ইনিংসের মাধ্যমে মোহামেডান নিজেদের আগের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ৩৪৮ রানকে ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে আবাহনীর বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ ৩৩৯ রানের রেকর্ডও ভেঙে পড়ে। শুধু তাই নয়, ডার্বি ম্যাচে আবাহনীর ৩৭১ রানের পুরোনো মাইলফলকও অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস লেখা হয়।
তবে ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের সর্বকালের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে প্রাইম ব্যাংকের ৪২২ রানের বিশাল সংগ্রহ এখনো শীর্ষে অবস্থান করছে। মোহামেডান সেই রেকর্ড থেকে মাত্র ১৬ রানের দূরত্বে থেমে যায়।
দলীয় ইনিংসের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| ব্যাটসম্যান | রান | বিশেষ অবদান |
|---|---|---|
| নাঈম শেখ | ৩৬ | শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান |
| পারভেজ হোসেন ইমন | ১৫০ | ২৪৮ রানের বিশাল জুটি |
| এনামুল হক বিজয় | ১৪১ | দীর্ঘ ও স্থিতিশীল ইনিংস |
| আফিফ হোসেন | ৬১ | ৩৩ বলে দ্রুত রান |
| আনিসুল ইসলাম | ৩০ | শেষ দিকের আক্রমণাত্মক খেলা |
| মোট | ৪০৬/৪ | ঐতিহাসিক দলীয় সংগ্রহ |
এই বিশাল ইনিংস মোহামেডানের জন্য শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং শিরোপা জয়ের পথে এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবাহনীকে হারাতে পারলে এবং অন্য ফলাফল নিজেদের অনুকূলে এলে তারা শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যাবে। ফলে এই ঐতিহাসিক ব্যাটিং প্রদর্শনী এখন দলের আত্মবিশ্বাসের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
