ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নিজেদের সম্ভাব্য শিরোপা জয় উদযাপনে আগাম প্রস্তুতি ও বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইংল্যান্ড। বিগত ৬০ বছরে ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে না পারলেও, এবার ট্রফি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ব্রিটিশ প্রশাসন। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এমন আগাম বিজয় র্যালির আয়োজন নিয়ে ফুটবল অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
Table of Contents
বাজেট বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি
বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলতে পারলে দেশজুড়ে বিশাল উল্লাস ও বিজয় মিছিলের জন্য একটি বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য উদযাপনের জন্য প্রাথমিক খরচ হিসেবে ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা (ব্রিটিশ মুদ্রায় যা সমপরিমাণ পাউন্ড) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইংল্যান্ড দল চ্যাম্পিয়ন হলে ফাইনালের পরদিনই পুরো লন্ডন শহর জুড়ে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য মিছিলের খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে ইতিমধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে। ইংল্যান্ড সরকারের ক্রীড়া দফতরকে এই রাজকীয় আয়োজন সম্পন্ন করার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ (এফএ)-ও যৌথভাবে পুরো বিষয়টি তদারকি করছে।
বিগত অভিজ্ঞতা ও এবারের বিশেষ পরিকল্পনা
ইংল্যান্ডের এই আগাম পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে তাদের বিগত বছরের একটি সফল অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের নারী ফুটবল দল ইউরো কাপ জয় করার পর লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারসহ প্রধান সড়কগুলোতে একটি বিশাল বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল।
নারী দলের সাফল্য (২০২৫): ইউরো কাপ জয়ের পর লন্ডনের রাস্তায় প্রায় ৬৫ হাজার ফুটবল সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন।
পুরুষ দলের পরিকল্পনা (২০২৬): ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ধারণা, হ্যারি কেনের নেতৃত্বাধীন পুরুষ দল যদি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে রাস্তায় সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের ভিড় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে এবং উৎসবকে স্মরণীয় করতে একটি বিশেষ দোতলা বাসের (ডাবল ডেকার বাস) ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাদখোলা এই বাসে চড়ে ফুটবলাররা ট্রফিসহ গোটা লন্ডন শহর প্রদক্ষিণ করবেন এবং সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানাবেন। বর্তমান পর্যায় পর্যন্ত শুধুমাত্র এই উৎসবের নিখুঁত পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের পেছনেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দলগত পরিসংখ্যান
ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে বৈশ্বিক শিরোপার খরা দীর্ঘদিনের। ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে শেষবারের মতো শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর থেকে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে তারা আর কোনো বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।
নিচে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় এবং বর্তমান পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় | ১৯৬৬ সাল (ঘরের মাঠে) |
| শিরোপাহীন সময়কাল | বিগত ৬০ বছর (ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেনি) |
| বিজয় র্যালির সম্ভাব্য তারিখ | ২০ জুলাই (১৯ জুলাই ফাইনাল ম্যাচের পর) |
| উদযাপনের জন্য বরাদ্দ বাজেট | ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা |
| পরিকল্পনার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা | সরকারের ক্রীড়া দফতর এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) |
| প্রধান আকর্ষণ ও বাহন | ছাদখোলা বিশেষ দোতলা বাস (ডাবল ডেকার বাস) |
| বর্তমান দলের অধিনায়ক | হ্যারি কেন |
সমালোচনা ও বিতর্কিত দিক
বিশ্বকাপের মতো একটি অনিশ্চিত এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এই ধরনের রাজকীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করায় দেশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের একাংশের মতে, মাঠের খেলা শুরু হওয়ার আগেই ট্রফি জয়ের উৎসবের পরিকল্পনা করা অবাস্তব এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের শামিল। সমালোচকদের বক্তব্য হলো, বিশ্বকাপের মূল আসরে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স কেমন হয় তা পর্যবেক্ষণ করার পর এই ধরনের নাগরিক সংবর্ধনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। যদি কোনো কারণে ইংল্যান্ড দল টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব বা ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে এই বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ইংল্যান্ডের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
তবে সমস্ত সমালোচনাকে একপাশে রেখে, অধিনায়ক হ্যারি কেনের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপার খরা কাটাতে এবং মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে বদ্ধপরিকর ইংল্যান্ড ফুটবল দল।
