২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকতে পারেন আফ্রিকার সাত তারকা

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে রেকর্ড ১০টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। ফলে মহাদেশটির ফুটবলারদের ওপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরও থাকবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নেয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও কয়েকটি আফ্রিকান দেশ নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে। এর মধ্যে কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশ নিচ্ছে, আর ডিআর কঙ্গো ১৯৭৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে ফিরেছে।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফ্রিকার যেসব ফুটবলার বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজনকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

খেলোয়াড়দেশপজিশনউল্লেখযোগ্য তথ্য
আন্তোয়ান সেমেনিয়োঘানাফরোয়ার্ডজাতীয় দলের অন্যতম আক্রমণভাগের খেলোয়াড়
ইয়ান ডিওমান্ডেআইভরি কোস্টআক্রমণভাগবুন্দেসলিগায় উজ্জ্বল পারফরম্যান্স
রনওয়েন উইলিয়ামসদক্ষিণ আফ্রিকাগোলরক্ষকজাতীয় দলের অধিনায়ক
রোবার্তো ‘পিকো’ লোপেসকেপ ভার্দেডিফেন্ডারবিশ্বকাপ বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ব্রাহিম দিয়াজমরক্কোউইঙ্গারআন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরমার
ইসমাইলা সারসেনেগালফরোয়ার্ড/উইঙ্গারজাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের সদস্য
ওমর মারমুশমিসরউইঙ্গারমিসরের অন্যতম আক্রমণাত্মক শক্তি

ঘানার ফরোয়ার্ড আন্তোয়ান সেমেনিয়ো ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ঘানার প্রতিনিধিত্ব করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আলোচনায় এসেছেন।

আইভরি কোস্টের তরুণ ফুটবলার ইয়ান ডিওমান্ডেকে দেশটির ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জার্মানির শীর্ষ লিগে খেলার সময় তিনি ১২টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেন এবং মৌসুমের সেরা নবাগত খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি লাভ করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস অভিজ্ঞতার কারণে দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে পেনাল্টি শুটআউটে একাধিক সেভ করে তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন।

কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার রোবার্তো ‘পিকো’ লোপেসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও ব্যতিক্রমধর্মী। আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ২০১৯ সালে কেপ ভার্দের জাতীয় দলে যোগ দেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার অবদান দলটির প্রথম বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইউরোপের একাধিক শীর্ষ লিগে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

সেনেগালের ইসমাইলা সার দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও তিনি জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে মিসরের ওমর মারমুশ গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা ও গোল করার সামর্থ্যের কারণে বিশেষভাবে পরিচিত। জাতীয় দলের হয়ে তিনি মোহাম্মদ সালাহর পাশাপাশি আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রেকর্ডসংখ্যক আফ্রিকান দলের অংশগ্রহণে ২০২৬ বিশ্বকাপ মহাদেশটির ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। সেই মঞ্চে এই সাত ফুটবলার নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচনায় আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।