জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

ফেনীর পরশুরাম উপজেলা গেটসংলগ্ন এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার ওরফে প্রিয়া (১৫) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত থাকা এই কিশোরীর মৃত্যুর স্থান থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানিয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পটভূমি ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরশুরামের উত্তরবাজার এলাকার উপজেলা গেটসংলগ্ন সড়কের ‘কাদের টাওয়ার’-এর তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন মোশাররফ হোসেন তালুকদার ও তাঁর স্ত্রী জাহেদা আক্তার। জাহেদা আক্তার স্থানীয় কেতরাঙ্গা মোহাম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার সকালেও তিনি কিশোরী গৃহকর্মী ফারহানাকে বাসায় রেখে স্কুলে যান।
দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তিনি দরজার কলিং বেল বাজালে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জাহেদা আক্তার বিষয়টি প্রতিবেশী ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের জানান। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসার প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরের একটি কক্ষে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সাথে ফারহানার নিথর দেহ ঝুলতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সবাই বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবহিত করেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও চিরকুট উদ্ধার
খবর পেয়ে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তল্লাশিকালে লাশের আশপাশ থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উদ্ধারকৃত চিরকুটটির বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, চিরকুটে সরাসরি আত্মহত্যার কারণ বা স্পষ্ট কিছু লেখা না থাকলেও সেখানে বেশ কিছু অস্পষ্ট বার্তা রয়েছে। উদ্ধারকৃত হস্তলেখাটি নিহত কিশোরী ফারহানার কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ দ্বারা ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর সাথে ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
নিহত ফারহানা আক্তার নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বিগত প্রায় তিন বছর ধরে সে পরশুরামের এই পরিবারটিতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিল।
ঘটনার বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা ও সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য