মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক ইরানপন্থি প্রচারণা

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখানে ইরানের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (মার্কিন সংবাদমাধ্যম)। একই সঙ্গে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একাধিক বার্তাও প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রোববার। পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। হ্যাকিংয়ের পর ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক ভিডিও ও লিখিত বার্তা পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে ইরানকে সমর্থনসূচক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনামূলক বার্তাও ছড়ানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হ্যাকাররা কিছু পোস্টে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রসঙ্গও যুক্ত করে, যা ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সংঘাত হিসেবে পরিচিত। এই প্রসঙ্গ ব্যবহার করে বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে মন্তব্য করা হয়।

ঘটনার পর অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার বা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিষয়টি ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক ব্যক্তিত্বদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময়/তারিখঘটনা
রোববারমার্কিন স্পেস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়
হ্যাকের পরপরইঅ্যাকাউন্ট থেকে ইরানপন্থি বার্তা ও ভিডিও পোস্ট করা হয়
একই সময়যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একাধিক বার্তা প্রচার করা হয়
পোস্টগুলোর মধ্যেভিয়েতনাম যুদ্ধ সম্পর্কিত উল্লেখ যুক্ত করা হয়
মঙ্গলবারবিষয়টি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (মার্কিন সংবাদমাধ্যম) প্রকাশ করে

হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত পোস্টগুলোতে একাধিক ভিডিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ভিডিও ও বার্তায় ইরানের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তবে হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি বা কীভাবে অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনাটি সামরিক ও সরকারি পর্যায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে এনেছে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।