আজকের বৈদেশিক মুদ্রা হার

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী আয়ের প্রবাহ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল লাখো পরিবার যেমন দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পরিচালনা করে, তেমনি সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায়ও এই আয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও দেশের মুদ্রা বাজারে প্রতিফলিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৮ মে তারিখে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় হার সমান অবস্থানে রয়েছে। ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল প্রবণতা নির্দেশ করে। ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং, জাপানি ইয়েন, অস্ট্রেলিয়ান ডলারসহ অন্যান্য প্রধান মুদ্রার ক্ষেত্রেও সীমিত ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও আমদানি ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার কারণে মুদ্রা বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, বৈশ্বিক সুদের হার পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বিনিময় হারে প্রভাব ফেলতে পারে।

নিচে ১৮ মে ২০২৬ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার গড় বিনিময় হার তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নামক্রয়মূল্য (টাকা)বিক্রয়মূল্য (টাকা)
মার্কিন ডলার১২২.৭৫১২২.৭৫
পাউন্ড স্টার্লিং১৬৩.৫৩১৬৩.৬০
ইউরো১৪২.৬০১৪২.৭২
জাপানি ইয়েন০.৭৭০.৭৭
অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৭.৭৯৮৮.০০
সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৪১৯৬.৪৭
কানাডিয়ান ডলার৮৯.১৭৮৯.২৭
ভারতীয় রুপি১.২৮১.২৮
সৌদি রিয়াল৩২.৫৫৩২.৫৬

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও সম্প্রসারণ এবং আমদানি ব্যয় দক্ষভাবে ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া বৈশ্বিক বাজারে ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন এবং এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রা বিনিময় হারও বাংলাদেশের বাজারে পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান মুদ্রা বাজার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভবিষ্যৎ গতিপ্রবাহ অনেকাংশে নির্ভর করবে।