পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টায় নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঈদের দিন ডিএসসিসি এলাকায় মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৯টি কোরবানির পশু জবাই করা হয়েছে। এসব পশু জবাইয়ের পর উৎপন্ন বর্জ্য অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসসিসি এলাকায় মোট ১২ হাজার ৬৮৪ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় রাত ১২টার মধ্যে এই পরিমাণ ১৮ হাজার টনের বেশি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, কোরবানির পশুর হাট এবং নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণেও বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশ বর্জ্য ইতোমধ্যে অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, কর্পোরেশনের আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড ইতোমধ্যে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট চারটি ওয়ার্ডে প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে এবং এসব এলাকায় দ্রুত সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশনের বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরীকে পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক নগরবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার কারণে দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর নগরীতে বিপুল পরিমাণ কোরবানির বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যাতে নগরীর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায়।
