দেশের সাতটি জেলায় রাত ১টার মধ্যে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানায়। সতর্কবার্তাটি সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী রাত ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, এ সংকেত সাধারণত তখনই জারি করা হয় যখন কোনো এলাকায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং নদীপথে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়, তবে এটি ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতির নির্দেশক নয়।
পূর্বাভাসে উল্লেখিত ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য বয়ে গেলেও তা স্থানীয়ভাবে নদীপথে চলাচলরত নৌযান, মাছধরা কার্যক্রম এবং খোলা স্থানে অবস্থানরত মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ছোট নৌযানগুলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং স্থানীয় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের অস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও নোয়াখালী অঞ্চলগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ ও উপকূলীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এসব এলাকায় নিয়মিত নৌযান চলাচল, মাছ ধরা এবং স্থানীয় পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে আবহাওয়ার এ ধরনের পরিবর্তন স্বল্প সময়ের জন্য হলেও স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত সাধারণত নির্দেশ করে যে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল এবং অস্থায়ীভাবে ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ অবস্থায় নৌযানগুলোকে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নদীবন্দর, নৌযান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনসাধারণকে সাবধানতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
