জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩০ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মো. ইব্রাহীম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
সোমবার সকালে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় এই ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত শিক্ষক মো. ইব্রাহীম ওই মাদ্রাসায় কমর্রত ছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সোমবার সকালে পাঠদান চলাকালে বা তার কাছাকাছি সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম শিশু শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালান। অপরাধ সংঘটনের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শিক্ষক শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখান এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য কঠোর হুমকি দেন।
তবে ভুক্তভোগী শিশুটি মানসিক ধকল সহ্য করে বাড়িতে ফিরে স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। শিশুটির কাছ থেকে নির্যাতনের বিবরণ শুনে তার অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ ও আটক করেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশে সংবাদ দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
আটক হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ইব্রাহীম তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত বলাৎকারের অভিযোগ দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি একটি স্থানীয় কোন্দল বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, আক্রান্ত শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পরই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুর আইনি বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) ও সুরক্ষার জন্য যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিশুদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধে প্রচলিত আইনি কাঠামো ও সাহায্যকারী ব্যবস্থাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
জরুরি সাড়া প্রদান (৯৯৯): যেকোনো অপরাধমূলক বা সহিংসতার মুহূর্তে পুলিশের দ্রুত সহায়তা পেতে সর্বজনীন ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।
চাইল্ড হেল্পলাইন (১০৯৮): সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এই ফ্রি হটলাইন নম্বরে যেকোনো সময় শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সহায়তা পাওয়া যায়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: উক্ত আইনের ৯ ধারার অধীনে শিশু বলাৎকার বা যৌন নির্যাতনের অপরাধে কঠোর ও জামিনঅযোগ্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার: নির্যাতনের শিকার শিশুদের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এবং তাদের যথাযথ আইনগত ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষায়িত ভিকটিম সাপোর্ট কেন্দ্র কাজ করে।
বিনামূল্যে সরকারি আইনি সহায়তা: জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (লিগ্যাল এ্যাড) মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলো আইনি লড়াইয়ের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী সেবা পেতে পারে।
মন্তব্য