জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর পরিচালিত একটি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অন্তত চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তেহরানভিত্তিক আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ভূখণ্ডে পরিচালিত ওই আকস্মিক হামলায় ইরান সমর্থিত একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক আস্তানা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বেশ কজন সদস্য হতাহত হন।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত চার কর্মকর্তা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ছিলেন। তবে তাদের নাম বা সুনির্দিষ্ট পদের বিস্তারিত সামরিক তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, একই হামলায় ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) বা হাশদ আল-শাবির আরও বেশ কজন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কয়েকটি কফিনের ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। দাবি করা হচ্ছে, এগুলো ওই হামলায় প্রাণ হারানো ইরানি সেনা সদস্যদের মরদেহ। তবে ছবিটির সত্যতা কিংবা সেটি সাম্প্রতিক এই বিমান হামলার স্থান বা সময়কালের কি না, তা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথ এই সামরিক পদক্ষেপটির মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক ড্রোন ও রকেট হামলার জবাব দেওয়া। মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, গত কিছুদিনে আইআরজিসির প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এসব হামলা চালানো হয়েছিল, যা বন্ধ করতেই এই সুনির্দিষ্ট সমন্বিত আঘাত হানা হয়।
অন্যদিকে, যৌথ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরান এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে মার্কিন ও সৌদি বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট অবমাননা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা ও তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য