জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১১:৮ পিএম

ইরানের ওপর পরিচালিত সামরিক অভিযানের একটি প্রচারমূলক ভিডিওচিত্রে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরির অনুমোদন ছাড়াই তাঁর জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারি উদ্যোগে নির্মিত কোনো সামরিক প্রচারণায় নিজের সৃষ্টিকে এভাবে সহিংস কাজে যুক্ত করায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই মার্কিন গায়িকা। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে কেটি পেরি লেখেন, “এমন ঘটনায় আমি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। এই কাজের জন্য আমার কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে জানতেও চাওয়া হয়নি। কোনো অবস্থাতেই আমি একে সমর্থন করি না।”
নিজের এই কালজয়ী গানের পেছনের ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষকে অনুপ্রাণিত করা এবং আত্মমর্যাদা জাগিয়ে তোলার বার্তা ছড়াতে গানটি তৈরি হয়েছিল। সেই ইতিবাচক সুরকে ধ্বংস ও সহিংসতার কাজে ব্যবহারের হাতিয়ার বানানো আমার সংগীতের মূল ভাবধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
ঘটনার সূত্রপাত হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি সামরিক ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে ইরানের ওপর হামলার দৃশ্যের পটভূমিতে বাজানো হচ্ছিল বিলবোর্ড চার্ট কাঁপানো গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’। ভিডিওর ক্যাপশনে দেওয়া হয়েছিল সরাসরি সতর্কবার্তা—‘ইরানকে সতর্ক করা হলো’। ক্যারিয়ারে যেসব গান দিয়ে বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন পেরি, তার মধ্যে এটি অন্যতম সফল সৃষ্টি।
গানের মালিকানা ও বাণিজ্যিক স্বত্ব সংক্রান্ত বিতর্কটিও এখানে সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে কার্লাইল গ্রুপের অর্থায়নে পরিচালিত ‘লিটমাস মিউজিক’-এর কাছে নিজের প্রথম সারির পাঁচটি সুরভিত্তিক অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা অধিকার বিক্রি করে দিয়েছিলেন কেটি পেরি। সেই তালিকায় ছিল তাঁর বিখ্যাত ‘টিনেজ ড্রিম’ অ্যালবামটি, যার অন্যতম জনপ্রিয় ট্র্যাক হলো ‘ফায়ারওয়ার্ক’। চুক্তিভিত্তিক এই বিক্রির মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
পপ তারকা হিসেবে খ্যাতির পাশাপাশি মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনেও কেটি পেরি বেশ সোচ্চার। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির অনুরাগী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন, ২০২০ সালে জো বাইডেন এবং পরবর্তী ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রচারে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে বর্তমানে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চর্চিত হচ্ছে।
প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক প্রচারণায় শিল্পীদের সম্মতি ছাড়া শিল্পকর্ম ব্যবহারের ঘটনা ট্রাম্পের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। এর আগেও অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কারপেন্টার এবং ‘ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টল’-এর প্রকাশক প্রতিষ্ঠান কিডস ক্যান প্রেস তাদের সৃষ্টির রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তা ছাড়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে গান বাজানো বন্ধ করতে অতীতে রিহানা, অ্যাডেল, ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং নিল ইয়াংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীরাও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ দাগিয়েছেন।
মন্তব্য