জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বেইলি রোডের বহুল আলোচিত ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামের বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই জামিন মঞ্জুর করেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামিরা সশরীরে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান। জামিন লাভ করা এই দুই আসামি হলেন—ভবনটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ এবং ভবনটিতে পরিচালিত ‘ফুকো’ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ।
আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসামি রমজানুল হক নিহাদের পক্ষে জামিন আবেদন উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহিদ হাসান। অন্যদিকে আসামি রাসেল আহম্মেদের পক্ষে জামিনের শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট প্রদীপ রঞ্জন দেবনাথ। দুই পক্ষের দীর্ঘ আইনি যুক্তি শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাততলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন ‘গ্রিন কোজি কটেজে’ আকস্মিকভাবে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। বহুতল ভবনের নিচের দিকে থাকা রেস্তোরাঁর রান্নাঘর বা সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল। ভবনজুড়ে বহু রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে থাকলেও ছিল না পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের পথ কিংবা উপযুক্ত জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। যার ফলে মুহূর্তে আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো সাততলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
ঐ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন রেস্তোরাঁর গ্রাহক ও কর্মীরা আটকে পড়েন। সেদিনের সেই নারকীয় ঘটনায় মোট ৪৬ জন মানুষ দগ্ধ হয়ে এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহতদের করুণ তালিকায় ছিলেন ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী এবং ৮ জন নিরীহ শিশু। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে চরম ঝুঁকি নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে ভবনের ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় অন্তত ৭৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল।
বেইলি রোডের এই হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের নিরাপত্তা অবহেলা, নকশা লঙ্ঘন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির গুরুত্ব ও গভীরতা বিবেচনা করে থানা পুলিশের হাত থেকে এর তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে ভবনের মালিক, রেস্তোরাঁ পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে দায়ী বলে উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মন্তব্য