এলপিএল ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন ৪৮ বাংলাদেশি ক্রিকেটার

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ–এর নতুন আসরে আবারও ফিরছে ড্রাফট পদ্ধতি। আগের দুই মৌসুমে নিলামের মাধ্যমে দল গঠন করা হলেও এবার ক্রিকেটার বাছাই করা হবে ড্রাফটের মাধ্যমে। আগামী ১ জুন অনুষ্ঠিত হবে এবারের ড্রাফট, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা অংশ নেবেন। আয়োজক শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ২১টি দেশের ৬৫০ জনের বেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

ড্রাফটে অংশ নিতে ৪৮ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটারও নাম নিবন্ধন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা প্রকাশ করেনি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ফলে কোন কোন ক্রিকেটার এবারের এলপিএলে দল পাওয়ার লড়াইয়ে থাকছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।

নিবন্ধিত ক্রিকেটারের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটি থেকে মোট ১০২ জন ক্রিকেটার ড্রাফটের জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ৭৫ জন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৬৬ জন, নিউজিল্যান্ড থেকে ৪১ জন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২৪ জন, ইংল্যান্ড থেকে ১৫ জন এবং ভারত থেকে ১২ জন ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন।

শুধু পূর্ণ সদস্য দেশ নয়, সহযোগী সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যেও এবারের এলপিএল নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র এবং আয়ারল্যান্ড–এর ক্রিকেটাররাও ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন। প্রাথমিক নিবন্ধন শেষে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত ড্রাফট তালিকায় ৩১০ জন ক্রিকেটারকে রাখা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।

আগামী ১৭ জুলাই মাঠে গড়াবে এবারের এলপিএল। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাফনা এবং রানার্সআপ গল। সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ৮ আগস্ট। এছাড়া বৃষ্টি বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে ৯ আগস্ট রিজার্ভ ডে হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এলপিএল একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাও নিয়মিতভাবে এই লিগে অংশ নিয়ে আসছেন।

এর আগে এলপিএলের বিভিন্ন আসরে বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ব্যাটিং, বোলিং ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজরও কেড়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতাও তাদের পেশাদার ক্রিকেটজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এবারের ড্রাফটে ৪৮ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম নিবন্ধন করায় বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ড্রাফটে কারা দল পান এবং কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ পান, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে ১ জুন পর্যন্ত। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে এবারের এলপিএলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কতটা বড় হচ্ছে।

ড্রাফট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার ফলে দলগুলো নির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী ক্রিকেটার বাছাইয়ের সুযোগ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এবারের আসরে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ব্যাপকতা এলপিএলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।