কেন্দুয়ার পশুর হাটে বাড়ছে বেচাকেনা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজাজুড়ে জমে উঠেছে গবাদিপশুর হাট। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে বর্তমানে উপজেলার ৩৪টি পশুর হাটে প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কোরবানির সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব হাটে গরু, ছাগল ও মহিষের আমদানি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বেচাকেনার পরিমাণও। স্থানীয় প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং হাট ইজারাদারদের সমন্বিত উদ্যোগে বাজারগুলোতে নিরাপত্তা ও সেবাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, কেন্দুয়া উপজেলায় আগে থেকেই ১২টি স্থায়ী পশুর হাট চালু রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আরও ২২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় খামারি, গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি পশু কেনাবেচার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে।

অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নওপাড়া বাজার হাট, গামরুলী হরিপুর নতুন বাজার, ফতেপুর আনন্দ বাজার, বঙ্গ বাজার, নোয়াদিয়া জামে মসজিদ মোড়সংলগ্ন পশুর হাট, নোয়াদিয়া ও বালিজুড়া বাজার, গোপালপুর বাজার, জনতা বাজার, সাখড়া বাজার, বাঁশাটি বাজার, ওয়াই বাজার, বসুর বাজার, ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসা বাজার, কাওয়ালীকান্দা বাজার, পাইকুড়া মিঞা হোসেন বাজার, বৈরাটি বাজার, সান্দিকোনা বাজার, সান্দিকোনা খেলার মাঠসংলগ্ন বাজার, হারুলিয়া বাজার, মোজাফরপুর মাদরাসা বাজার, গোগ বাজার এবং বৈরাটি মোড় বাজার।

নিচে কেন্দুয়ার পশুর হাটসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
স্থায়ী পশুর হাট১২টি
অস্থায়ী পশুর হাট২২টি
মোট হাট৩৪টি
হাট বসার সময়সপ্তাহে দুই দিন
বেচাকেনার সময়সকাল থেকে সন্ধ্যা
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে বেশি সংখ্যক পশুর হাট চালু হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। আগে দূরের হাটে পশু নিতে অতিরিক্ত খরচ ও ঝুঁকি থাকলেও এখন তুলনামূলক কম খরচে কাছের বাজারেই পশু বিক্রি করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতারাও পছন্দমতো পশু সহজে কিনতে পারছেন।

সরেজমিনে চিরাং ইউনিয়নের চিরাং বাজারের পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক, ভ্যান ও পিকআপে করে পশু আনা হচ্ছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরুর পাশাপাশি ছাগলের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। হাটের ইজারাদার আতাউল হক মিন্টু জানান, চিরাং বাজার একটি স্থায়ী পশুর হাট। প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও শনিবার এখানে হাট বসে। ঈদ সামনে থাকায় আশপাশের উপজেলা থেকেও ক্রেতা-বিক্রেতারা আসছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের যত সময় ঘনিয়ে আসবে, পশুর সরবরাহ ও বিক্রি আরও বাড়বে।

হাটে আসা পাইকার রাসেল মিল্কি বলেন, স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের কাছ থেকে পশু সংগ্রহ করে তিনি উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করছেন। এবারের বাজারে পশুর চাহিদা ভালো থাকায় ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন। বিশেষ করে দেশীয় খামারে লালিত গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনও তৎপর রয়েছে। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী মাকসুদ বলেন, পশুর হাটে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শসেবা দিচ্ছে। তিনি বলেন, সুস্থ ও নিরাপদ পশু বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কেন্দুয়ার পশুর হাটগুলো এখন স্থানীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিনই মুখর হয়ে উঠছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার।