নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি সালিস বৈঠকে বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বিরাবো বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মোজাম্মেল হক কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা কাউসার আহমেদ ও তাঁর সমর্থকেরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় মহড়া দেন এবং পরে ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৮ থেকে ১০ জন। তাঁদের হাতে রামদা, ছেনি, ছুরি, পাইপ ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। হামলার সময় চার থেকে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাক্রমে কাঞ্চন পৌরসভার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে।
পরবর্তী সময়ে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সোমবার রাতে বিরাবো বাজারে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। তবে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, কাউসার আহমেদের সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে সালিস বৈঠকে হামলা চালান এবং মোজাম্মেল হককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, যা সাধারণভাবে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, মোজাম্মেল হকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | বিরাবো বাজার, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ |
| ঘটনার সময় | সোমবার রাত |
| আহত ব্যক্তি | মোজাম্মেল হক |
| পরিচয় | কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক |
| বিরোধের কারণ | স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা |
| অভিযুক্ত পক্ষ | কাউসার আহমেদ ও তাঁর সমর্থকেরা |
| পূর্ববর্তী ঘটনা | যুবদল কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | লিখিত অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত চলমান |
স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক উত্তেজনার এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
