সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষিকা ও ছাত্রী নিহত

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই ঘটনায় আরও একজন শিক্ষিকা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটির পর স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে।

নিহত শিক্ষিকার নাম উম্মে কুলসুম (৪৮)। তিনি বদলগাছী লাবণ্যপ্রভা কমিউনিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত শিক্ষিকার নাম মমতাজ খাতুন (৫০), তিনিও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তাসনিম আরা (১৩) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আবুল কালাম চৌধুরীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উম্মে কুলসুম ও মমতাজ খাতুন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার খাতা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় থেকে রওনা দেন। দুপুর আনুমানিক একটার দিকে তারা বদলগাছী থেকে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশায় করে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বদলগাছী–মাতাজী সড়কের চাকরাইল মোড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ধান মাড়াইয়ের যন্ত্র বহনকারী একটি যানবাহনের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষিকা গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর শিক্ষিকা মমতাজ খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর বিদ্যালয়ে পৌঁছালে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম আরা শিক্ষিকার মৃত্যুর সংবাদ শুনে আকস্মিকভাবে গুরুতর মানসিক আঘাতে আক্রান্ত হয়। সহপাঠী ও শিক্ষকরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তীব্র মানসিক ধাক্কার কারণে তার শারীরিক অবস্থায় আকস্মিক জটিলতা সৃষ্টি হয়ে মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে।

নিহত ও আহতদের তথ্য সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো—

নামবয়সপরিচয়অবস্থাবর্তমান পরিস্থিতি
উম্মে কুলসুম৪৮ বছরসহকারী শিক্ষিকানিহতহাসপাতালে মৃত ঘোষণা
মমতাজ খাতুন৫০ বছরসহকারী শিক্ষিকাআহতবদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন
তাসনিম আরা১৩ বছরঅষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীনিহতহাসপাতালে মৃত ঘোষণা

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম ইয়াসার জানান, উম্মে কুলসুম হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। অন্যদিকে শিক্ষার্থী তাসনিম আরাকে হাসপাতালে আনার পরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একসঙ্গে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও মানসিক চাপ বিরাজ করছে।

বদলগাছী থানার তদন্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকাবাসী সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।