ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সদর উপজেলার মায়াধরপুর ও শৈলকুপার দামুকদিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নফরকান্দি গ্রামের দিনমজুর আসাদুল ইসলাম (৪০) এবং শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের আন্না খাতুন (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আসাদুল ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামে দিনমজুর হিসেবে ধান কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বিকেলে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠ থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে একই দিন বিকেলে শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামে বজ্রপাতের আরেক ঘটনায় আন্না খাতুন নিহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝড় শুরু হলে তিনি বাড়ির পাশে একটি আম বাগানে আম সংগ্রহ করতে যান। এ সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া এবং শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় নারীসহ আরও সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে শৈলকুপা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সেলিনা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং তাদের অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
একই দিনে পৃথক স্থানে বজ্রপাতজনিত একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে কৃষিকাজ ও খোলা আকাশের নিচে কাজের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
